সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে প্রিয়জনের জন্মদিন পালন

আমাদের চট্টগ্রাম শিক্ষা সংগঠন

আব্দুল্লাহ আল নোমান,বার্তা সম্পাদক: প্রিয়জনকে খুশী করতে মানুষ কতকিছু করে তার সীমরেখা নেই৷ প্রিয় মানুষের বিশেষ দিনগুলোতে সবাই চায় তার প্রিয়জনকে বিশেষ কিছু উপহার দিতে। প্রিয়জনের জন্মদিন উপলক্ষে ব্যতীক্রম ধর্মী আয়োজন করেছে চট্টগ্রামের ছেলে খোকন চৌধুরী। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে জন্মদিন পালন, তাদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন এই তরুন। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে তিন নং পার্কিং এরিয়ায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান করে আলোর আশা ফাউন্ডেশন। সুবিধাবঞ্চিত বা পথশিশুদের জন্য করা হয়েছে স্কুল অব হিউম্যানিটি এন্ড এ্যানিমেশন বা সোহা স্কুল। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল এর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে এই মহৎ কাজের উদ্দ্যোগটি নেয়া হয়। জন্মদিন পালন করতে এসে খোকন চৌধুরী বলেন, জন্মদিন প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি আনন্দের দিন,এই দিনে আমরা বন্ধুবান্ধব নিয়ে নানা ধরণের আয়োজন করে থাকি। এই দিনে আনন্দের চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশী বেশী শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ। জন্মদিন উপলক্ষ মাত্র, এই দিনটিকে ঘিরে যদি অসহায়দের মুখে হাসি ফুটে তাহলে আনন্দের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং প্রিয়জনকে দেয়া হয় অন্যরকম উপহার তাই আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এই সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের সামাজিক সংগঠন স্মাইল বাংলাদেশ এর এডমিন মামুন বিন আমীন, আলোর আশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল ও সহ – সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ জোবায়ের হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শরীফ, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক আয়শা তাহরীম নিতু এছাড়া ও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বজিৎ দাশ, প্রিয়াংকা দাশ, ও গাজী রাছেল হোসাইন, মোরশেদ আহমেদ শান্ত, তৌফিকুর রহমান ঈমন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো.জোবায়েদ হোসেন, নওশাদ হাসান রাজু, সাবরিন দেওয়ান লুবনা সহ আরো অনেকে।

আলোর আশা ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শরীফ বলেন,সুবিধাবঞ্চিত ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার আওতায় আনতে গেলে সর্বপ্রথম ওদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হবে, এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য খাদ্য। যদি বিয়ে, জন্মদিন সহ নানান অনুষ্ঠান এই আনন্দবঞ্চিত ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে করা হয় তাহলে ওদের মাঝে পড়া শুনার আগ্রহ বেড়ে যায় বহুগুণে। ওরা পড়াশুনার প্রতি আরো বেশী আগ্রহী হয়, তাই আমরা পড়ার বিনিময়ে খাদ্য দিয়ে থাকি। অনেকে এভাবে তাদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে আসেন যার কারণে বাচ্চাগুলো আজ বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

ব্যতিক্রমী জন্মদিনের এই উৎসবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা অনেক বেশী আনন্দিত হয়েছে। কারণ গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে তিন জানুয়ারি শীতকালীন ছুটি ছিল। আবার আজ নতুন বছরের প্রথম ক্লাস, প্রথম দিনে এই ধরণের আয়োজন পেয়ে প্রতিটি বাচ্চা আনন্দিত বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের সহ – সভাপতি হাফেজ কাজী জোবায়ের হোসেন। তিনি আরো বলেন সমাজের প্রতিটি বিত্তবান মানুষ যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে এক সময় নিরক্ষর ও সুবিধাবঞ্চিত শব্দগুলো আর থাকবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *