যাকাতের টাকায় পরিবর্তন হবে শতাধিক শিশুর ভাগ্য

Uncategorized আমাদের চট্টগ্রাম শিক্ষা সংগঠন সম্পাদকীয়

নিজস্ব প্রতিনিধি : যাকাতের টাকায় পরিবর্তন হবে শতাধিক শিশুর ভাগ্য। যাকাতের মাধ্যমে আপনিও নিতে পারেন একজন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর বেড়ে উঠার দায়িত্ব।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে SOHA স্কুল কার্যক্রম।

কখনো বটতলায়, কখনো ট্রেনের বগিতে অসহায় শিশুদের পাঠদানের চেষ্টা করেছে আলোর আশা ফাউন্ডেশন। বর্তমানে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের তিন নং সি এন জি পার্কিংয়ে ভাসমান স্কুল ও পোস্তারপাড়ে মনোরম ক্লাসরুমের মাধ্যমে পড়ানো হচ্ছে পথশিশুদের। আলোর আশা ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত School Of Humanity & Animation (SOHA) মাত্র কয়েকজন মানুষের সহযোগিতায় এমন কিছু শিশুকে পড়াশুনার আওতায় এনেছি যারা কখনো স্কুলে যায় নি। কখনো বই হাতে নিয়ে দেখেনি তারাই এখন নিয়মিত পড়াশুনা করছে ভিক্ষা নয় শিক্ষা চাই এই স্লোগানে চলছে। শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বর্তমানে শতাধিক শিশু এখানে নিয়মিত পড়াশুনা করছে।

৭০ জন শিশুর জীবনের ইতিহাসে একটি মিল আছে। কারো বাবা নাই, কারো মা নাই, অথবা কারো বাবা চলে গিয়েছে মা অন্যত্র বিয়ে করেছে। আবার কারো বাবা মা আছে তবে এরাও ভাসমান৷কারো বাবা মা থাকলে ও তারা শারিরীকভাবে অক্ষম৷পথেই জীবন পথেই বেড়ে উঠা তাদের। এক সময় ভিক্ষে করলে ও বর্তমানে এদের কেউ কেউ পানি বিক্রেতা অথবা কুলি কাজ করে৷এদেরকে পড়াশুনা করনোর দায়িত্ব নিয়েছে সামাজিক সংগঠন আলোর আশা ফাউন্ডেশন। প্রাথমিক পর্যায় বিষয়টি কষ্টসাধ্য ছিল।প্রতিটি ক্লাস শেষে খাবার দেয়া হয় আবাসন ছাড়া সকল মৌলিক অধিকার পূরণ করা হয়৷

ক্লাস শেষে খাবার বিতরণ কার্যক্রম

সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের সকল সদস্যদের পরিশ্রম ও ভালোবাসায় আজ তারা শিক্ষিত হতে চায়, স্বপ্ন দেখে জীবনে বড় হওয়ার। ওদের স্বপ্নকে সত্যি করতে আলোর আশা ২০১৯ সালে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে কাজ করছে। এ পর্যন্ত আমাদের তালিকায় আছে ১০৫ শিশু। রমজানে সকলের সহযোগিতা পেলে আমরা আবাসনের ব্যবস্থা ও করবো ইনশাআল্লাহ।

এক মাসের খাবার বিতরণ

সোহা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আয়শা তাহরীম নিতু বলেন ওদেরকে বিভিন্ন স্কুল বা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করালে ওরা ঝড়ে পড়ে। স্কুলে যেতে ইচ্ছুক থাকে না। অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে মিশতে পারেনা।সব বিষয় চিন্তা করে আমরা সাজিয়েছি ওদের জন্য নতুন সিলেবাস নতুন ক্লাস রুম। পাঠ্যপস্তুক তালিকায় রয়েছে বাংলা, ইংরেজী, গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিত্রাঙ্কন ও সুন্দর হাতের লিখা ও ধর্মীয় শিক্ষা। এজন্য আমাদের পাশে আছেন কয়েকজন হাফেজ ও মাওলানা সাহেব। এছাড়া থাকবে সচেতনতা মূলক ক্লাস। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও বিনোদন ক্লাস তো রয়েছেই। আমরা চেষ্টা করছি ওদের বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে, পাশাপাশি নিজ ধর্ম সম্পর্কে পরিপূর্ণে জ্ঞান দান করতে।

সোহা ক্লাস রুম

সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মুরাদ শামসুল আলম খাঁন বলেন, আমাদের এই প্রজেক্ট গুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চলছে এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী মাঝে মধ্যে খাবারের ব্যবস্থা করেন। দেখা যায় প্রতি মাসে চার পাঁচ জন বাচ্চা অসুস্থ হয় এবং ওদের জন্য করা ক্লাসরুমের ভাড়া ও অন্যান্য ব্যয় সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হয় নিয়মিত। রমজান মাসে আমরা আমাদের যাকাত বা ফিতরার কিছু অংশ ওদের শিক্ষা তহবিলে দান করলে এই বাচ্চাগুলোর মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত হবে আগামী এক বছর ইনশাআল্লাহ। সমাজের সকলের সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য।

 

আলোর আশা ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল বলেন, ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা থেকেই শুরু হয় আমাদের এই সংগঠন। আমরা নিয়মিত চেষ্টা করি ওদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং ভিক্ষা নয় শিক্ষা চাই এই শিক্ষায় দীক্ষিত করতে। এছাড়া ওরা এখন বিশ্বাস করে সুশিক্ষাই সম্মান পাই, ভিক্ষায় কোন সম্মান নাই।শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতার ফলে আমরা দেড় বছর অতিক্রম করেছি। প্রতিটি বাচ্চার জন্য মাসে ১৫০০-১৮০০ টাকা খরচ হয়। সমাজের বিত্তবানরা যদি একজন করে বাচ্চার জন্য এগিয়ে আসেন তাহলে সম্ভব এই ধারাবাহিকতা নিয়মিত রাখা। আমরা যদি নিজ জায়গা থেকে একটি করে এতিম অসহায়ের খরচ বহণ করি তাহলে কিছু বাচ্চা জীবনে পরিপূর্ণ শিক্ষিত হবে এবং নিরক্ষর মুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। কোন শিশু আমাদের দেশের জন্য বোঝা হবে না৷ এছাড়া ও প্রতি মাসে ব্যয়বহন আমাদের অনেকের জন্য অসম্ভব হয়।

এক নজরে কিছু কার্যক্রম

রমজান মাসে আমরা অনেকে যাকাত ফিতরা দিয়ে থাকি। আমাদের যাদের যাকাত দেয়ার সামর্থ্য আছে আমরা যদি ওদের শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যাকাত দিতে পারি আলোর আশা ফাউন্ডেশন এর সোহা ফান্ডে । আমাদের যাকাতের একটি অংশের মাধ্যমে SOHA স্কুলের কমপক্ষে একটি করে বাচ্চার জীবনকে আলোকিত করতে পারবে এবং আগামী একবছর পড়া শুনার সুযোগপাবে।একজন বাচ্চার পিছনে ব্যয় মাসিক ব্যয় ১৫০০ করে হলেও একবছরের ব্যয় প্রায় ১৮০০০ টাকা৷ সমাজের সকলের সহযোগিতা পেলে আমরা এবছর আবাসন ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা ও করবো ইনশাআল্লাহ ।
তিনি আরো বলেন সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চারা কখনো অবহেলার পাত্র নয়। ওরা আমাদের দেশের সন্তান এবং আগামী প্রজন্ম। তাদেরকে গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আলোর আশা ফাউন্ডেশন এর সাথে সকলকে থাকার আহবান রইলো৷

অফিস: বশির সর্দার বিল্ডিং (৩য় তলা) ২০১ ডি টি রোড পোস্তারপাড়মোড়,ধনিয়ালাপাড়া, চট্টগ্রাম।

Page link: AlorAshaFoundation24
Group link: আলোর আশা ফাউন্ডেশন -(The Hope of Light)

সংগঠনের বিকাশ নং 01721-000345
রকেট 01721-000 345 8

ব্যাংক হিসাব ডাচ বাংলা ব্যাংক লিঃ
133.101.303630
মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল
মুরাদপুর শাখা ।।

Emial :Alorasha.bd@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *