বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে।

মুহাম্মদ আরমান,চট্টগ্রাম: বি এনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা আহত হয়েছেন।বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর সদরঘাট থানার পূর্ব মাদার বাড়ির মাঝিরঘাট রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেছে বিএনপি।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে নির্বাচন করছেন আমির খসরু মাহমদু চৌধরী। তার গণসংযোগে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান এবং প্রচারে হামলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিএনপি নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে রয়েছেন শিশির, রনি, রানা ও টিটু। এর মধ্যে টিটু স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল এবং অন্য তিনজন ছাত্রদলের নেতাকর্মী। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছর। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তাদের।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘মাদারবাড়ি এলাকায় আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ করছিলাম। এ সময় লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রলীগের স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের একজন নারী সদস্যসহ ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’ এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল পূর্ব মাদারবাড়ির সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আমীর খসরু গণসংযোগ করছিলেন। হঠাৎ ৪০-৪৫ যুবক পেছনের দিক থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করার চেষ্টা করেন। বেশির ভাগ যুবকের হাতে লাঠিসোঁটা ও হকিস্টিক দেখা গেছে। কিন্তু তাঁদের ধাওয়ায় বিএনপির কেউ নড়াচড়া করেননি। যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও থমকে দাঁড়ান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানায়, একপর্যায়ে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে ছাত্রলীগের হাতাহাতি হয়। হাতাহাতি সংঘর্ষের পর্যায়ে চলে যায়। এতে বিএনপি কর্মী রাজিবুল হাসান এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী টিটু আহত হন। পরিস্থিতি বেশি দূর গড়ানোর আগে আমীর খসরু ছাত্রলীগের মারমুখী কর্মীদের মুখোমুখি হন। এ সময় খসরু উত্তেজিত যুবকদের জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমাদের প্রবলেম (সমস্যা) কী? আমাকে বলো।’ ছাত্রলীগের কর্মীরা তখন বিএনপির দুই-এক কর্মীর নাম ধরে তাঁদের ব্যাপারে আপত্তির কথা জানান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সদরঘাট থানা বিএনপির সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বুধবার দুপুরে পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় বিএনপি প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা গণসংযোগ করছিলাম। নেতাকর্মীরা মাঝিরঘাট এলাকায় গেলে স্থানীয় ছাত্রলীগের একদল উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী পেছন থেকে লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়।’

এদিকে হামলা বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন নগরীর সদরঘাট থানার ওসি নেজাম উদ্দিন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রচারে হামলা হয়েছে এমন কোনো বিষয় আমাদের জানা নেই। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগও করেনি।’ তবে আমীর খসরু বলেন, ‘মাদারবাড়ি এলাকায় প্রচার চালাতে যাওয়ার আগেই বিষয়টি আমি নিজেই সদরঘাট থানার ওসিকে জানিয়েছিলাম। ওসি বিষয়টা জানেন না, এটা ঠিক নয়।’

প্রচারের দ্বিতীয় দিনে বুধবার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এদিন চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী সাগরিকা মোড় থেকে শুরু করে কাজীরদীঘি, মুরগি ফার্ম, পাঠানপাড়া, ফৌজদারপাড়া, সাগরিকা রোড, বশির শাহ মাজার, লোহারপুল ও সরাইপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় দিনভর গণসংযোগ করেছেন চট্টগ্রাম-১০ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ৩০ ডিসেম্বর সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রচারে নোমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দীন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল, আহমেদুল আলম রাসেল প্রমুখ।